পিরিয়ডকালীন ব্যথার রুকইয়াহ

পিরিয়ডকালীন ব্যথার রুকইয়াহ

প্রাথমিক কথা— মাসিকের সময় হওয়া ব্যথার ইংরেজি হলো ডিসমেনোরিয়া (Dysmenorrhea)। গ্রিক শব্দাংশ ‘ডিস’ (dys) ও ‘মেনোরিয়া’ (menorrhœa) যুক্ত হয়ে এই শব্দটি তৈরি হয়েছে। ‘ডিস’ (dys) শব্দের অর্থ ‘যন্ত্রণা, ব্যথা বা কষ্ট’ এবং ‘মেনোরিয়া’ (menorrhœa) শব্দের অর্থ ‘মাসিকের রক্তপ্রবাহ’। একত্রে ‘ডিসমেনোরিয়া’ শব্দের অর্থ দাঁড়ায় — “ব্যথাযুক্ত মাসিকের রক্তপ্রবাহ”। অর্থাৎ মাসিক শুরু হওয়ার আগে বা মাসিক চলাকালীন সময়ে নারীরা যে ব্যথা অনুভব করেন, তাকে ডিসমেনোরিয়া বলে।

ডিসমেনোরিয়াকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়—

  • প্রাইমারি ডিসমেনোরিয়া
  • সেকেন্ডারি ডিসমেনোরিয়া

অন্য কোনো রোগ বা জরায়ুর গঠনগত ত্রুটির কারণে হওয়া ডিসমেনোরিয়াকে “সেকেন্ডারি ডিসমেনোরিয়া” বলা হয়। আর অন্য কোনো কারণ না থাকলে তাকে “প্রাইমারি ডিসমেনোরিয়া” বলা হয়।

প্রাইমারি ডিসমেনোরিয়া — এ ক্ষেত্রে শারীরিক পরীক্ষায় বা আল্ট্রাসনোগ্রামে জরায়ু বা ডিম্বাশয়ে কোনো সমস্যা পাওয়া যায় না। মাসিক শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যথা শুরু হয় এবং ২-৩ দিন থেকে মাসিক শেষ হওয়ার সাথে সাথে চলে যায়।

সেকেন্ডারি ডিসমেনোরিয়া — এটি জরায়ু, ডিম্বাশয় বা প্রজননতন্ত্রের কোনো রোগের লক্ষণ। সেই রোগ দূর না হওয়া পর্যন্ত ব্যথা থেকেই যায়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অজানা কারণে মাসিকের ব্যথা বেশি দেখা যায়।

রুকইয়াহ চিকিৎসা— সেকেন্ডারি ডিসমেনোরিয়া হলে; সুন্নাহ হিসেবে ডাক্তারি চিকিৎসা গ্রহণ করবেন এবং পাশাপাশি নিম্নে প্রদত্ত প্রাইমারি ডিসমেনোরিয়ার পরামর্শগুলোও ফলো করবেন।

পিরিয়ডকালীন ব্যথার রুকইয়াহ

সেকেন্ডারি ডিসমেনোরিয়া হলে— সুন্নাহ হিসেবে ডাক্তারি চিকিৎসা গ্রহণ করবেন এবং পাশাপাশি নিচের প্রাইমারি ডিসমেনোরিয়ার পরামর্শগুলোও অনুসরণ করবেন।

প্রাইমারি ডিসমেনোরিয়া হলে — পিরিয়ড শুরু হওয়ার কমপক্ষে এক সপ্তাহ আগে থেকেই নিচের আমলগুলো করতে থাকুন। পিরিয়ড শুরু হয়ে গেলে ‘আয়াত তিলাওয়াত’ বন্ধ করে দিয়ে ‘তিলাওয়াত শোনা’ ও দোয়া পাঠ চালু রাখুন। এই সময়ের জন্য পান করার ও মালিশ করার উপকরণ — পানি, কালোজিরার তেল, মধু ও অলিভ অয়েল — আগে থেকেই প্রস্তুত করে রাখুন।

১. নিয়মিত ফজর ও মাগরিবের পরে তলপেটে ডান হাত রেখে হাদীসে বর্ণিত ব্যথা দূর করার দোয়াগুলো প্রত্যেকটি সাতবার করে পাঠ করুন। পড়া শেষে তলপেটে ফুঁ দিন এবং উভয় হাতে ফুঁ দিয়ে পেটে মুছে দিন।

২. নিয়মিত ফজর ও মাগরিবের পরে নিচের আমলগুলো করুন:

  • ১. সূরা ফাতিহা — ৭ বার
    ২. আয়াতুশ শিফা ওয়াত তাখফীফ — ১ বার
    ৩. সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস — প্রত্যেকটি ৩ বার
    ৪. সূরা আম্বিয়া, ৩০ নং আয়াত — ৩ বার

  • أَوَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا ۖ وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ ۖ أَفَلَا يُؤْمِنُونَ (30)

    ৫. সূরা সাফ্ফাত, ৪৭ নং আয়াত — তলপেটে হাত রেখে ৪১ বার

  • لَا فِيهَا غَوْلٌ وَلَا هُمْ عَنْهَا يُنزَفُونَ (47)

    ৬. সূরা ওয়াক্বিয়া, ১৯ নং আয়াত — তলপেটে হাত রেখে ৭ বার
  • لَّا يُصَدَّعُونَ عَنْهَا وَلَا يُنزِفُونَ (19)

তিলাওয়াত শেষে উভয় হাতে ফুঁ দিয়ে তলপেটে মুছে দিন। পানি, মধু, কালোজিরার তেল বা অলিভ অয়েলের যেকোনো একটিতে (একাধিক হলে আরও ভালো) ফুঁ দিয়ে পান করুন। তেলে ফুঁ দিয়ে তলপেটের ব্যথার স্থানে মালিশ করুন এবং পানিতে ফুঁ দিয়ে ডান হাতে নিয়ে তলপেটে সজোরে ছিটিয়ে দিন।

৩. পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে সকাল-বিকাল এই লিংকের তিলাওয়াতটি তিনবার করে শুনুন: https://muftialamin.com/ruqyah-for-period-pain/

ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে যদি নিশ্চিত হন যে আপনার প্রাইমারি ডিসমেনোরিয়া, কিন্তু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন এবং উপরের রুকইয়াহ পরামর্শ অনুসরণ করেও ব্যথা কমছে না — সেক্ষেত্রে সরাসরি একজন অভিজ্ঞ রাকীর শরণাপন্ন হওয়া উচিত এবং ব্যথার পেছনে জিন-যাদুর প্রভাব আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা উচিত।

error: Content is protected !!