সিহরুর রাবত তথা যৌন অক্ষম বানানোর যাদু
লজ্জা নয়; চিকিৎসা গ্রহণ করুন । বিচিত্র এ দুনিয়ার মধ্যেও আরেক অন্ধকার দুনিয়া রয়েছে—যাদুর দুনিয়া । ‘সিহরুর রাবত’ সেই গোপন দুনিয়ার বিশেষ এক ধরনের যাদু। যার প্রভাবে ছেলেদের ‘ইরেকটাইল ডিসফাংশন’ আর মেয়েদের ‘হাইপোভারসন’ বা ‘এভারসন’ জাতীয় সমস্যা ঘটে। ছেলেদের ক্ষেত্রে এ প্রকারের যাদুর পারিভাষিক নাম—‘সিহরুর রাবত’। মেয়েদের ক্ষেত্রে এ প্রকারের যাদুর পারিভাষিক নাম—‘সিহরুত তাসফিহ’।
পরিচয়
সিহরুর রাবত বা ‘ربط’ বা যৌন অক্ষম করার যাদু হলো এমন এক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একজন সুস্থ পুরুষকে তার স্ত্রীর সাথে সহবাসে বাধা দেওয়া হয়।
লক্ষণ
أن يكونَ الزَّوجُ مربوطاً عن الجِمَاعِ، والمربوط أشْبَهُ بالعِنِّين؛ إلا أَنَّ الرَّبْطَ لَا يَسْتَمِرُّ طَوِيلًا
অনুবাদ: “স্বামীকে সহবাস থেকে বেঁধে ফেলা হয়; এই যাদুগ্রস্ত ব্যক্তি ‘ইন্নীন’ বা নপুংসকের মতো হয়ে যায়, তবে এই অবস্থা সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয় না। পৃষ্ঠা ৩৩৫।
عقد الزوج عن زوجه (سحر ربط الزوج) : ويؤدي هذا النوع إلى سلب الرجل القدرة الجنسية على إتيان أهله
অনুবাদ: “স্বামীকে স্ত্রীর থেকে বেঁধে ফেলা; এই ধরণের যাদু একজন পুরুষকে তার স্ত্রীর সাথে যৌনমিলনের সক্ষমতা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত করে দেয়। পৃষ্ঠা ১০৭।
أن يعجز الرجل المستوي الخلقة غير المريض عن إتيان زوجته
অনুবাদ: সুস্থ এবং স্বাভাবিক শারীরিক গড়নের একজন পুরুষের (যাদুর প্রভাবে) তার স্ত্রীর কাছে যেতে বা সহবাস করতে অক্ষম হওয়া। পৃষ্ঠা ১০৫।
وفجأة يجد نفسه عاجزاً عن الجماع… وهذا ما يُسمى بالربط أو عقد الزوج عن زوجته
অনুবাদ: “হঠাৎ করে নিজেকে সহবাসে অক্ষম আবিষ্কার করা… একেই যাদুর পরিভাষায় ‘রাবত’ বা স্ত্রীকে স্বামী থেকে বেঁধে রাখা বলা হয়। পৃষ্ঠা ১৩০।
সিহরুত তাসফিহ
সিহরুর রাবতের নারী ভার্সনকেই সিহরুত তাসফিহ বলে। আরেকটু ভেঙ্গে বললে, সিহরুত তাসফিহ হলো নারীদের জন্য করা এক ধরণের ‘রাবত’ (শারীরিক বন্ধন) বা যৌন মিলনে বাধা দেওয়ার যাদু। এই যাদুটি মূলত নারীদের ওপর প্রয়োগ করা হয়; যাতে তারা তাদের স্বামীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে না পারে। এই যাদুর বিভিন্ন ধরণ রয়েছে
ربط المرأة : ومعناه أن الساحر يعقد سحره لربط رحم المرأة بموعد الجماع .. فإذا أراد الزوج مجامعتها سال الدم خارج الفرج بكثرة
অনুবাদ: নারীর বন্ধন; এর অর্থ হলো যাদুকর মিলনের সময় নারীর জরায়ু বা গোপন অঙ্গ বেঁধে ফেলে… ফলে স্বামী মিলন করতে চাইলে প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পৃষ্ঠা ১২২।
সংযুক্তি, রক্তক্ষরণ হওয়াটা বাঁধার একটি ধরণ। সবার ক্ষেত্রে হুবহু এটি-ই না হয়ে অন্য কিছুও হতে পারে। যেমন কারো ক্ষেত্রে স্বামী সহবাসের জন্য কাছে আসলেই অতিরিক্ত সাদাস্রাব শুরু হয়ে যেতে পারে। যা সহবাসে বাঁধা তৈরি করে।
এই যাদুর প্রভাবে আক্রান্ত নারী মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকলেও শারীরিকভাবে স্বামীর সাথে মিলিত হতে বাধাগ্রস্ত হন
আমার রোগীদের মধ্যে এ সংক্রান্ত দুটি কেস স্টাডি শেয়ার করছি ।
কেস স্টাডি — ১
রোগী একজন পুরুষ । যৌন সচেতন ও সুস্থ মানুষ। বিয়ে করে বাসর ঘরে গিয়ে আবিষ্কার করলেন যে, তিনি ‘ইরেকটাইল ডিসফাংশন’ এ ভুগছেন। অথচ ইতিপূর্বে তিনি এ বিষয়ে দিব্যি সুস্থ ছিলেন।
কেস স্টাডি — ২
রোগী একজন মেয়ে। বিয়ে হয়েছে এক বছর প্লাস । অথচ এ এক বছরের মধ্যে শতবার চেষ্টা করেও তারা ঘনিষ্ঠ হতে পারেননি । নিজ আগ্রহেই ভিন্ন জেলায় অবস্থানকারী স্বামীকে একাধিকবার বাসায় ডেকে এনেছেন; কিন্তু ঘনিষ্ঠতার শেষ পর্যায়ে এসে অজানা কোনো কারণে তিনি নিজেই আবার বাধা প্রদান করেন। তখন স্বামী এ বিষয়ক কোনো আগ্রহ প্রকাশ করলে চিৎকার-চেঁচামেচি ও গালাগালি শুরু করে দেন ।
দু’জন রোগীই যৌন রোগ ও সাইকো-সেক্সুয়াল সমস্যা ভেবে যৌন বিশেষজ্ঞ এবং সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে চিকিৎসা নিয়েছেন। কিন্তু কোনো উন্নতি নেই । আর হবেই বা কি করে! এরা তো আসলে শারীরিক কিংবা মানসিক কোনো রোগেই আক্রান্ত নয় । মূলত দু’জনই ‘সিহরুর রাবত’ এ আক্রান্ত। যার একমাত্র চিকিৎসা রুকইয়াহ আশ শারইয়্যাহ ।
মানুষের পাশাপাশি আশিক জ্বীনও অনেক সময় এ ধরণের যাদু করে থাকে । যেমন উপরে বর্ণিত কেস দু’টিতেই আমাদের ডায়াগনোসিসে মনে হয়েছে যে, ১নম্বর কেসটিতে মানুষ কর্তৃক এ যাদু করা হয়েছে । আর ২নং কেসটিতে আশিক জ্বীন নিজেই এ যাদু করেছে । (অদৃশ্যের সঠিক জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর জন্য) ।
আশিক জ্বীন সম্পর্কিত সংক্ষিপ্ত ধারণা পেতে “আশিক জ্বীনঃ সংক্ষেপে ধারণা ও লক্ষণ” এই আর্টিকেলটি পড়তে পারেন ।