পরকীয়া ও রুকইয়াহ সমাধান

পরকীয়া ও রুকইয়াহ সমাধান

পরকীয়া মূলত একটি চারিত্রিক সমস্যা। আর রুকইয়াহ হলো জিন, যাদু ও প্যারানরমাল সমস্যার চিকিৎসা। স্বাভাবিক চারিত্রিক পদস্খলনের কারণে কেউ পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়লে সেটি রুকইয়াহর বিষয় নয়, বরং তাওবা ও চরিত্র সংশোধনের বিষয়। এ পরিস্থিতিতে তার দাম্পত্য সঙ্গীর আধ্যাত্মিক করণীয় হলো — দোয়া করা এবং তার চারিত্রিক সংশোধনে সাহায্য করা।

তবে একটি ব্যতিক্রম আছে। কখনো কখনো যাদুর প্রভাবেও মানুষ পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়তে পারে। এই ধরনের যাদুকে আরবিতে ‘সিহরুল আতফ’ বলা হয়, বাংলায় যা বশীকরণ যাদু নামে পরিচিত। এমনকি সৎ চরিত্রের মানুষও এই যাদুর শিকার হয়ে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে যেতে পারেন।

এই দুই ধরনের পরকীয়া চেনার কিছু উপায় আছে। যাদুর প্রভাবে যে ব্যক্তি পরকীয়ায় জড়িয়েছেন, তিনি যাদুর প্রভাব কমে এলে নিজেই এই সম্পর্ক থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করবেন। এই অনৈতিক টানের কথা তিনি তার দাম্পত্য সঙ্গীর কাছে গোপন করতে চাইবেন না। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো — এই টান তিনি একজনের প্রতিই অনুভব করবেন, একাধিক মানুষের প্রতি নয়। একজন স্ত্রী তার স্বামীর চরিত্র সবচেয়ে ভালো জানেন — তিনি সহজেই বুঝতে পারবেন এটি তার স্বামীর স্বাভাবিক আচরণ নয়।

অন্যদিকে চারিত্রিক পদস্খলনের কারণে যে ব্যক্তি পরকীয়ায় জড়ান, তার ক্ষেত্রে চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সুযোগ পেলে তিনি একাধিক মানুষের সাথে এ ধরনের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং জীবনে একাধিকবার এরকম ঘটনার নজির পাওয়া যায়।

যাদুর কারণে হোক বা চারিত্রিক কারণে — উভয় ক্ষেত্রেই দাম্পত্য সঙ্গীর জন্য কিছু কুরআনি আমল রয়েছে, যা আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সহায়তা করে। নিচে সেগুলো ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করা হলো —

১. যেকোনো ফরজ নামাজের পরে সূরা আম্বিয়ার ৯০ নং আয়াতটি ৩, ৭, ২১ বার বা যতবার সম্ভব তিলাওয়াত করে স্বামী বা স্ত্রীর চারিত্রিক সংশোধনের জন্য আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে বেশি বেশি দোয়া করুন।

فَاسْتَجَبْنَا لَهُ وَوَهَبْنَا لَهُ يَحْيَىٰ وَأَصْلَحْنَا لَهُ زَوْجَهُ ۚ إِنَّهُمْ كَانُوا يُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ وَيَدْعُونَنَا رَغَبًا وَرَهَبًا ۖ وَكَانُوا لَنَا خَاشِعِينَ (90) الأنبياء (21)

২. পরকীয়া পার্টনারের সাথে যেন আপনার স্বামী বা স্ত্রীর দূরত্ব তৈরি হয় এবং তার প্রতি আকর্ষণ ও ভালোবাসা নষ্ট হয়ে যায় — এই নিয়তে নিচের আয়াতগুলো ৩, ৭, ২১ বার বা যতবার সম্ভব তিলাওয়াত করুন।

১. সূরা মায়েদা — ১৪ ও ৬৪ নং আয়াত
২. সূরা কাওসার — ১-৩ নং আয়াত
৩. সূরা লাহাব

فَأَغْرَيْنَا بَيْنَهُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ إِلَىٰ يَوْمِ الْقِيَامَةِ (14) المائدة (5)

وَأَلْقَيْنَا بَيْنَهُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ إِلَىٰ يَوْمِ الْقِيَامَةِ (64) المائدة (5)

إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ (1) فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ (2) إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ الْأَبْتَرُ (3) الكوثر (108)

تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ (1) مَا أَغْنَىٰ عَنْهُ مَالُهُ وَمَا كَسَبَ (2) سَيَصْلَىٰ نَارًا ذَاتَ لَهَبٍ (3) وَامْرَأَتُهُ حَمَّالَةَ الْحَطَبِ (4) فِي جِيدِهَا حَبْلٌ مِّن مَّسَدٍ (5) المسد (111)

৩. স্বামী বা স্ত্রীর মনে আপনার প্রতি কোনো বিদ্বেষ থাকলে তা যেন আল্লাহ দূর করে দেন — এই নিয়তে প্রতিদিন ফজর ও মাগরিবের পরে ৩, ৭ বা ২১ বার অথবা যতবার সম্ভব সূরা হিজরের ৪৭ নং আয়াত তিলাওয়াত করুন। পাশাপাশি সম্ভব হলে পানি বা যেকোনো খাবারে ফুঁ দিয়ে তাকে খাওয়াবেন এবং আয়াতটি তিলাওয়াত করে তার বুকে বা শরীরের যেকোনো জায়গায় ফুঁ দিবেন।

আয়াতটি এই— وَنَزَعْنَا مَا فِي صُدُورِهِم مِّنْ غِلٍّ إِخْوَانًا عَلَىٰ سُرُرٍ مُّتَقَابِلِينَ (47) الحجر (15)

বি.দ্র.: উক্ত খাবার বা পানি অন্যরা খেলেও কোনো সমস্যা নেই। চাইলে পানির কলসি বা ফিল্টারে অথবা যেকোনো খাবার রান্নার সময় ফুঁ দিয়ে নিতে পারবেন।

৪. স্বামী বা স্ত্রীর অন্তরে যেন আল্লাহ আপনার প্রতি ভালোবাসা তৈরি করে দেন — এই নিয়তে [দাম্পত্য মনোমালিন্য দূর ও ভালোবাসা বৃদ্ধির আমল] অনুসরণ করুন।


৫.
পরিস্থিতির আলোকে আপনার দাম্পত্য সঙ্গী যাদুতে আক্রান্ত হয়ে এমনটা করছেন বলে মনে হলে —
[রুকইয়াহর পানি তৈরির পদ্ধতি] অনুযায়ী পানি তৈরি করে তাকে পান করান। সম্ভব হলে [যাদু নষ্টের গোসল] করান।

দৃষ্টি আকর্ষণ: যদি আপনার স্বামী বা স্ত্রীকে বশীকরণ যাদু করা হয়ে থাকে এবং তার প্রভাবেই সে পরকীয়ায় জড়িয়েছে, সেক্ষেত্রে অবশ্যই তাকে যাদু নষ্টের রুকইয়াহ করতে হবে।

error: Content is protected !!