রুকইয়াহ (رقية) একটি আরবি শব্দ। যার আভিধানিক অর্থ: মন্ত্র পাঠ করা, ফুঁ দেওয়া, ঝাড়ফুঁক করা ইত্যাদি।
পারিভাষিক অর্থ: নিজের বা অন্যের সুস্থতা অথবা বিশেষ কোনো লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার আশায়— কুরআনের আয়াত, হাদিসে বর্ণিত দোয়া, আল্লাহ তায়ালার সত্ত্বাবাচক বা গুণবাচক কোনো নাম অথবা বৈধ অর্থবোধক কোনো বাক্য পাঠ করে আক্রান্ত ব্যক্তি বা বস্তুকে ঝাড়ফুঁক করা।
কীভাবে করা হয়: আক্রান্ত ব্যক্তির রুকইয়াহ সম্পর্কিত জানাশোনা থাকলে সে নিজেও নিজেকে “রুকইয়াহ” করতে পারে। অথবা সে এ ব্যাপারে অভিজ্ঞ কারো সাহায্যও নিতে পারে; যিনি তার সুস্থতার নিয়তে তাকে পাশে বসিয়ে— কুরআনের আয়াত, হাদিসে বর্ণিত দোয়া, আল্লাহ তায়ালার সত্ত্বাবাচক বা গুণবাচক কোনো নাম অথবা অভিজ্ঞতার আলোকে উপকারিতা প্রমাণিত এমন বৈধ অর্থবোধক (যার মধ্যে শিরক বা শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো আপত্তি নেই) কোনো বাক্য পাঠ করে ঝাড়ফুঁক করবেন।
রোগী নারী হলে— পূর্ণ পর্দার সাথে নিজের মাহরাম পুরুষকে সাথে নিয়ে এসে রুকইয়াহ করতে পারবেন।
রুকইয়াহতে যা করা হয় না: কোনো প্রকার তাবিজ-তুমার দেওয়া হয় না।
রুকইয়াহতে যা প্রয়োজন হয় না: রোগীর বাবা-মায়ের নাম, রোগীর ছবি, জন্ম তারিখ ইত্যাদি কোনো তথ্যের প্রয়োজন হয় না। এগুলো ব্যবহার করে যে চিকিৎসা করা হয়, তা শিরকি ও নাজায়েজ চিকিৎসা ব্যবস্থা।
সাপ্লিমেন্টারি হিসেবে যা প্রয়োজন হতে পারে: ঝাড়ফুঁক ও আমলের পাশাপাশি রোগীর অবস্থার ওপর নির্ভর করে ক্ষেত্রবিশেষে পবিত্র কুরআনে বা হাদিসে উপকারিতা বর্ণিত আছে এমন সব সাপ্লিমেন্টারি; যেমন— মধু, কালোজিরা, কালোজিরার তেল, জাইতুন তেল (অলিভ অয়েল), সানা মাক্কী বা সোনা পাতা ইত্যাদি ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে।