সুস্থতা রাক্বীর হাতে নয়; আল্লাহর হাতে

আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি, যা বিশ্বাসীদের জন্য সুচিকিৎসা ও দয়া। — সূরা বনী ইসরাইল, ৮২।

আমি বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ পাকের উপরোক্ত সুস্পষ্ট ঘোষণা সম্পর্কে জানার পরে একজন মুমিন হিসেবে আপনি নিশ্চয়ই বিশ্বাস করেন যে, কুরআনের মধ্যে ‘সুস্থতা’ রয়েছে।

আমি আরও বিশ্বাস করি যে—

আমি যদি এ কুরআনকে কোনো পাহাড়ের ওপর অবতীর্ণ করতাম, তবে আপনি দেখতেন— সেটি আল্লাহর ভয়ে বিনীত ও বিদীর্ণ হয়ে গেছে। — সূরা হাশর, ২১।

কুরআনে পাকের এ আয়াতটি পড়ে আপনি আরও আশ্বস্ত হয়েছেন যে, আপনার জ্বিন বা যাদুটি যতই শক্তিশালী হোক না কেন, কুরআনের সামনে তা কখনোই টিকতে পারবে না এবং এ ঐশী বাণীকে কখনোই পরাস্ত করতে পারবে না।

অতএব, উপরের আয়াত দুটির মর্মার্থ বুঝে থাকলে আপনাকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই যে, এক সেশন রুকইয়াহ করে সুস্থ না হলে পরবর্তী করণীয় হতাশ হয়ে বসে থাকা নয়; কিংবা এমন কারো প্রতি অভিযোগের আঙুল তুলে বসে থাকাও নয়, যার হাতে সুস্থতা নেই। বরং পুনরায় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি— যার হাতে সুস্থতা রয়েছে, যিনি সুস্থ করার ক্ষমতা রাখেন, সেই মালিকের কাছে অনুনয়-বিনয় ও কাকুতি-মিনতির সঙ্গে কান্নাকাটি করে সুস্থতা চেয়ে নেওয়াটাই বুদ্ধিমান ও প্রকৃত মুমিনের করণীয়।

মনে রাখবেন, কাঠুরে যতই শক্তিশালী হোক না কেন, আর তার কুঠারও যতই ধারালো হোক না কেন, মোটা গাছটি কিন্তু এক কোপেই কেটে যায় না। বরং গাছটির আয়তন অনুযায়ী উপযুক্ত পরিমাণ কোপ দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। তেমনি আপনার রোগটি জটিল হলে এক-দুই সেশন রুকইয়াহ যথেষ্ট নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে উপযুক্ত সংখ্যক সেশন নিতে হবে এবং আপনার রাক্বীর নির্দেশনা মতে সেলফ রুকইয়াহ তথা বাসার আমল চালিয়ে যেতে হবে।

কাঠুরের দশম বারের আঘাতে একটি গাছ দু’টুকরো হয়ে যাওয়ার অর্থ কখনোই এটা নয় যে, উক্ত গাছটি কাটার ক্ষেত্রে পূর্বোক্ত নয়টি আঘাতের কোনো ভূমিকা ছিল না। বরং গাছটি কাটার ক্ষেত্রে দশম আঘাতের ন্যায় পূর্বোক্ত আঘাতগুলোও সমান ভূমিকা রেখেছে। নয়টি আঘাত সয়ে দুর্বল হতে হতে শেষ পর্যন্ত দশম আঘাত সহ্য করার ক্ষমতা হারিয়ে গাছটি ভেঙে পড়েছে।

রুকইয়াহর বিষয়টিও তেমনই। সমস্যা জটিল হলে অনেক সময় আপনি এক-দুই সেশনে সুস্থ নাও হতে পারেন। তবে তার অর্থ কখনোই এটা নয় যে, সে সময়ের সেশন বা তিলাওয়াত আপনার জন্য কোনো ফলাফল বয়ে আনছে না বা আপনার ক্ষেত্রে কাজ করছে না। বরং যত রুকইয়াহ করছেন, আপনার সমস্যাটি ধীরে ধীরে দুর্বল হচ্ছে এবং কাঠুরের দশম বারের আঘাতের মতো একটি পর্যায়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত সেটি বিলুপ্ত হবেই— ইনশাআল্লাহ।

error: Content is protected !!