রুকইয়াহ চলাকালীন বদনজরে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট শারীরিক ও মানসিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে — যা সাধারণ অসুস্থতা থেকে ভিন্ন । উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বদনজরের এই প্রতিক্রিয়াগুলো সাধারণত জিন বা যাদুর প্রতিক্রিয়ার তুলনায় কিছুটা সূক্ষ্ম হয় । লক্ষণগুলোর তীব্রতা রোগীর ওপর বদনজরের প্রভাবের ওপর নির্ভর করে ।
চেহারার পরিবর্তন
বদনজরের অন্যতম প্রধান প্রতিক্রিয়া হলো রোগীর মুখমণ্ডলে অস্বাভাবিক মলিনতা, ফ্যাকাশে বা হলদে ভাব অথবা কালচে দাগ ফুটে ওঠা — আরবিতে যাকে বলা হয় সফআ । এর সাথে তীব্র মাথাব্যথা এবং শরীরে জ্বর জ্বর ভাব অনুভূত হতে পারে ।
অস্বাভাবিক হাই তোলা ও চোখের পানি
রুকইয়াহ শোনার সময় তীব্র এবং ঘন ঘন হাই তোলা বদনজরের অন্যতম প্রধান লক্ষণ । বিশেষ করে হাই তোলার সাথে চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়লে এটি বদনজরের জোরালো ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হয় । কিছু ক্ষেত্রে কোনো কারণ ছাড়াই অঝোরে কান্না আসতে পারে ।
অস্বাভাবিক ঘাম নিঃসরণ
শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে প্রচণ্ড ঘাম হতে পারে — বিশেষ করে পিঠের দিক থেকে এবং কপাল থেকে । অনেক ক্ষেত্রে এই ঘামে দুর্গন্ধ থাকতে পারে ।
শরীরের তাপমাত্রার পরিবর্তন
রোগী শরীরে বা পেটে তীব্র উত্তাপ অনুভব করতে পারেন । আবার কখনো হাত-পায়ে তীব্র শীতলতা বা বরফের মতো ঠান্ডা অনুভব হতে পারে — একই সময়ে পেটে গরম কিন্তু হাত-পা ঠান্ডা এমনটাও দেখা যায় ।
বুক ধড়ফড়ানি ও শ্বাসকষ্ট
হঠাৎ করে হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া এবং বুকে প্রচণ্ড চাপ, দম বন্ধ হয়ে আসার মতো অনুভূতি বা শ্বাসকষ্ট হওয়া বদনজরের রোগীদের অন্যতম প্রতিক্রিয়া ।
শারীরিক কাঁপুনি, ঝিঁঝিঁ ধরা ও অবশ ভাব
হাত-পা বা পুরো শরীরে কাঁপুনি হতে পারে । শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে — বিশেষ করে হাত ও পায়ের আঙুলে — অবশ ভাব বা ঝিঁঝিঁ ধরার মতো অনুভূতি হতে পারে ।
পেশির খিঁচুনি ও আড়মোড়া ভাঙা
রোগী অস্বাভাবিকভাবে হাত-পা টান টান করতে পারে, শরীর ম্যাজম্যাজ করতে পারে বা মাংসপেশিতে সংকুচিত হওয়ার মতো টান লাগতে পারে — আরবিতে যাকে বলা হয় তামাত্তি ।
মাথা ও ঘাড়ের অস্বস্তি ও ভারী
ঘাড়, কাঁধ বা মাথায় প্রচণ্ড ভারী ভাব অনুভব হওয়া — যেন কেউ সেখানে চেপে বসে আছে । বিশেষ করে মাথার পেছন দিকে বা খুলির নিচে তীব্র ব্যথা এবং ঘাড়ের রগ শক্ত হয়ে যাওয়া ।
ত্বকের পরিবর্তন
শরীরে হঠাৎ প্রচণ্ড চুলকানি শুরু হওয়া অথবা কোনো কারণ ছাড়াই নীলচে, লালচে, সবুজ বা খয়েরি রঙের দাগ বা ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া — যার কোনো চিকিৎসাগত কারণ নেই ।
পেটের সমস্যা
রুকইয়াহ’র সময় ঘন ঘন ঢেকুর তোলা, পেট ফাঁপা বা বায়ু নির্গত হওয়া এবং বমি বমি ভাব বা পিত্ত বমি হওয়া ।
চোখের অস্বাভাবিকতা
রুকইয়াহর সময় চোখের পাতা প্রচণ্ড দ্রুত নড়াচড়া করা বা হঠাৎ হঠাৎ কাঁপা এবং চোখ বারবার বন্ধ হয়ে আসা ।
দীর্ঘশ্বাস ও সর্দি
কোনো ঠান্ডা লাগা ছাড়াই নাক দিয়ে অনবরত পানি পড়া, ঘন ঘন গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলা এবং প্রচণ্ড কফ নির্গত হওয়া ।
তন্দ্রা, অবসাদ ও শারীরিক জীর্ণতা
রুকইয়াহ শোনার সময় হঠাৎ করে প্রচণ্ড ঘুম বা তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব চলে আসা, শরীর নিস্তেজ বা দুর্বল হয়ে পড়া এবং মাথা তোলার শক্তি হারিয়ে ফেলা।
মানসিক ও সামাজিক লক্ষণ
চরম অলসতা অনুভব করা এবং অহেতুক কান্না বা চিৎকার করার বেগ আসা।
বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে রুকইয়াহর সময় কোনো বাহ্যিক কারণ ছাড়াই দীর্ঘক্ষণ উচ্চৈঃস্বরে কান্নাকাটি করা বদনজরের শক্তিশালী লক্ষণ ।
সারসংক্ষেপ—
১. অস্বাভাবিক হাই তোলা ও চোখ দিয়ে পানি পড়া
২. মুখমণ্ডল ফ্যাকাশে, হলদে বা কালচে হয়ে যাওয়া
৩. তীব্র মাথাব্যথা ও শরীরে জ্বর জ্বর ভাব
৪. পিঠ ও কপাল থেকে প্রচণ্ড ঘাম
৫. শরীরে জ্বালাপোড়া বা হাত-পায়ে তীব্র ঠান্ডা অনুভব
৬. বুক ধড়ফড়ানি ও শ্বাসকষ্ট
৭. হাত-পায়ে কাঁপুনি, ঝিঁঝিঁ ধরা ও অবশ ভাব
৮. পেশিতে খিঁচুনি ও আড়মোড়া ভাঙা (তামাত্তি)
৯. ঘাড় ও মাথার পেছনে তীব্র ব্যথা ও ভারী ভাব
১০. শরীরে চুলকানি বা নীলচে-লালচে দাগ
১১. ঢেকুর তোলা, পেট ফাঁপা ও বমি বমি ভাব
১২. চোখের পাতা কাঁপা ও বারবার বন্ধ হয়ে আসা
১৩. নাক দিয়ে পানি পড়া, দীর্ঘশ্বাস ও কফ নির্গত হওয়া
১৪. তন্দ্রা, অবসাদ ও শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়া
১৫. অহেতুক কান্না বা চিৎকার করার বেগ আসা
১৬. চরম অলসতা ও একাকী থাকার প্রবণতা
১৭. শিশুদের ক্ষেত্রে কোনো কারণ ছাড়াই দীর্ঘক্ষণ উচ্চৈঃস্বরে কান্না