যে সমস্ত বোনেরা স্বপ্নে প্রায়ই শারীরিকভাবে হেনস্তার শিকার হন—যাকে নিয়ে কখনো কল্পনাও করেননি, স্বপ্নের মধ্যে তার সাথে ঘনিষ্ঠ হতে দেখেন; এমনকি কখনো কখনো মাহরাম আত্মীয়স্বজনের সাথেও স্বপ্নে নিজেকে বিব্রতকর অবস্থায় দেখেন; অথবা অপরিচিত ও ভয়ানক আকৃতির কোনো সত্তা জোর করে আপনার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে চাইছে—এমনটা স্বপ্নে দেখেন।
বিশেষত স্বপ্ন ভাঙার পরে যাদের—
- শরীরে ব্যথা অনুভব হয়
- শরীরের কোথাও আঁচড় বা আঘাতের দাগ দেখা যায়
- প্রাইভেট পার্টে জ্বালাপোড়া ও ব্যথা হয়
- অতিরিক্ত সাদাস্রাব হয়
তাদের অতিদ্রুত রুকইয়াহ চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত। আপনার সাথে জিন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। চূড়ান্ত ও সঠিক জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ তা’আলার; তিনিই সর্বাধিক জ্ঞাত।
রাতে জিনের যৌন নির্যাতন অত্যন্ত বিব্রতকর ও কষ্টদায়ক একটি সমস্যা। অনেক বোন লজ্জার কারণে কারো কাছে বিষয়টি প্রকাশ করতে পারেন না এবং নীরবে এই নির্যাতন সহ্য করে যাচ্ছেন। ঘুমালেই অনেকে আপত্তিকর পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন। এবং শুধু নারীদের ক্ষেত্রেই নয়, অনেক পুরুষও নারী জিনের দ্বারা এ ধরনের নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন।
যারা এ ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত, দিনে কিংবা রাতে ঘুমানোর পূর্বে নিয়মিত নিম্নোক্ত আমলগুলো করলে আশা করা যায় আল্লাহ তা’আলা আপনাকে হেফাজত করবেন, ইনশাআল্লাহ।
ঘুমের পূর্বে করণীয়
- সম্ভব হলে রুকইয়াহর গোসল করে, অন্যথায় অবশ্যই অজুর সাথে ঘুমানো
- ঘুমানোর পূর্বে নিজ হাতে বিছানা ঝেড়ে নেওয়া
- তাহাজ্জুদে জাগ্রত হওয়ার নিয়তে ঘুমানো
- বিসমিল্লাহ বলে ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে দেওয়া
- একা না ঘুমিয়ে কাউকে সাথে নিয়ে ঘুমানো
আমলের পদ্ধতি
- নিম্নোল্লিখিত দু’আ দু’টি — ৭ বার,
আয়াতুল কুরসি — ১ বার,
সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত — ১ বার - এবং তাসবীহে ফাতিমি (৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ, ৩৪ বার আল্লাহু আকবার)
পাঠ করে প্রথমে নিজের গায়ে ফুঁ দেবেন। অতঃপর পানিতে ফুঁ দিয়ে উক্ত পানির কিছুটা নিজের গায়ে ছিটিয়ে বাকিটা বিছানায় ও খাটের আশপাশে ছিটিয়ে দেবেন। আল্লাহ তা’আলা চাইলে এই আমলের মাধ্যমে উপরোক্ত সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন, ইনশাআল্লাহ।
বি. দ্র.: প্রাকৃতিক গোলাপজল, জমজম কিংবা বৃষ্টির পানি অথবা এগুলোর মিশ্রণ ব্যবহার করলে আরও উত্তম হবে।
দু’আ — ১
بِاسْمِ اللَّهِ وَضَعْتُ جَنْبِي، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي، وَاخْسَأْ شَيْطَانِي، وَفُكَّ رِهَانِي، وَاجْعَلْنِي فِي النَّدِيِّ الْأَعْلَى
বাংলা উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি ওয়াদা’তু জাম্বি, আল্লাহুম্মাগফিরলি জাম্বি, ওয়াখসা’ শাইতানি, ওয়া ফুক্কা রিহানি, ওয়াজ’আলনি ফিন-নাদিয়্যিল আ’লা।
অর্থ: আল্লাহর নামে আমার শরীরকে বিছানায় রাখলাম। হে আল্লাহ! আপনি আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন, আমার থেকে শয়তানকে লাঞ্ছিত করে তাড়িয়ে দিন, আমাকে (ঋণ থেকে) মুক্ত করুন এবং আমাকে উচ্চ মর্যাদার অধিবাসীদের (ফেরেশতাদের) কাতারে অন্তর্ভুক্ত করুন। (আবু দাউদ: ৫০৫৪)
দু’আ — ২
بِاسْمِكَ رَبِّ وَضَعْتُ جَنْبِي وَبِكَ أَرْفَعُهُ، إِنْ أَمْسَكْتَ نَفْسِي فَارْحَمْهَا، وَإِنْ أَرْسَلْتَهَا فَاحْفَظْهَا بِمَا تَحْفَظُ بِهِ عِبَادَكَ الصَّالِحِينَ
বাংলা উচ্চারণ: বিসমিকা রব্বি, ওয়াদা’তু জাম্বি; ইন আমসাকতা নাফসি ফারহামহা, ওয়া ইন আরসালতাহা ফাহফাযহা বিমা তাহফাযু বিহি ইবাদাকাস সালিহিন।
অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! আপনার নামে আমার শরীরকে বিছানায় রাখলাম, আর আপনার নামেই তা উঠাব। যদি আপনি আমার প্রাণ আটকে রাখেন (মৃত্যু দেন), তাহলে তার প্রতি দয়া করুন। আর যদি পুনরায় ফিরিয়ে দেন, তাহলে যেভাবে আপনার নেককার বান্দাদের হেফাজত করেন, সেভাবে তাকে হেফাজত করুন। (বুখারি: ৬৩২০)
[বাংলা কিংবা অন্য কোনো ভাষায় আরবির সঠিক উচ্চারণ পুরোপুরি প্রকাশ করা সম্ভব নয়। অবশ্যই কারো কাছ থেকে শুদ্ধ উচ্চারণ শিখে নেবেন।]
যাদের ক্ষেত্রে সমস্যাটি গুরুতর রূপ ধারণ করেছে
অর্থাৎ যারা স্বপ্নে জোরপূর্বক শারীরিক নিপীড়নের শিকার হন, তারা উপরের আমলের পাশাপাশি নিম্নোক্ত আয়াত ও দু’আ পাঠ করে অলিভ অয়েলে ফুঁ দিয়ে নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত মালিশ করবেন। আয়াত ও দু’আ পাঠ করে অন্তর্বাসে হালকা থুথুসহ তিনবার ফুঁ দিয়ে উক্ত পোশাক পরিধান করে ঘুমাবেন। পাশাপাশি বাখুর কিংবা প্রাকৃতিক আগরবাতিতে ফুঁ দিয়ে ঢিলেঢালা সালোয়ার ইত্যাদি পরে দুই পায়ের মধ্যবর্তী স্থানে ধোঁয়া নেবেন, যাতে ধোঁয়াটি শরীরের নিম্নাংশে পৌঁছাতে পারে।
-
আয়াতুল কুরসি — ৭ বার
اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ ۚ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ ۚ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۗ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِندَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ ۚ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ ۖ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ (255) البقرة (2)
-
সূরা ইয়াসিন এর ৯ নং আয়াত — ৩ বার
وَجَعَلْنَا مِن بَيْنِ أَيْدِيهِمْ سَدًّا وَمِنْ خَلْفِهِمْ سَدًّا فَأَغْشَيْنَاهُمْ فَهُمْ لَا يُبْصِرُونَ (9) يس (36)
-
সূরা আর-রহমান ৫৬, ৫৭, ৭২ থেকে ৭৫
فِيهِنَّ قَاصِرَاتُ الطَّرْفِ لَمْ يَطْمِثْهُنَّ إِنسٌ قَبْلَهُمْ وَلَا جَانٌّ (56) فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ (57) الرحمن (55)
-
সূরা বুরুজ-এর ১০ নং আয়াত — ১০ বার
إِنَّ الَّذِينَ فَتَنُوا الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ ثُمَّ لَمْ يَتُوبُوا فَلَهُمْ عَذَابُ جَهَنَّمَ وَلَهُمْ عَذَابُ الْحَرِيقِ (10) البروج (85)
-
“বিসমিল্লাহি তুরবাতু আরদিনা, বি-রিকাতি বা‘দিনা, লিইউশফা বিহি সাক্বিমুনা, বি-ইযনি রব্বিনা”— এই দোয়াটি ৩ বার
বি. দ্র.: এটি একটি সাময়িক ও তাৎক্ষণিক সমাধান। স্থায়ী সমাধানের জন্য অবশ্যই রুকইয়াহ চিকিৎসার মাধ্যমে জিনকে পিছু ছাড়াতে হবে। যারা ইতোমধ্যে রুকইয়াহ করছেন, তারা চিকিৎসা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এই আমলটিও করবেন। যারা পর্নোগ্রাফি ও হস্তমৈথুনে আসক্ত (নাউযুবিল্লাহ), তারা সর্বপ্রথম উক্ত কুঅভ্যাস পরিত্যাগ করে আল্লাহ তা’আলার কাছে তওবা করবেন, তারপর রুকইয়াহ চিকিৎসা শুরু করবেন।